রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ নিয়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি জানাতে এক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) আয়োজকেরা জানান, নগরবাসীর প্রতিদিনের শ্বাস–প্রশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দূষিত বাতাসের প্রভাবকে নথিবদ্ধ করতেই এ আয়োজন।
সকালে জানালা খুললে ধূসর ধোঁয়া ঘরে ঢুকে পড়া, বাইরে বের হলেই মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি—এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কারও হয়ে থাকে, তবে তা লিখিত বর্ণনা, আঁকা ছবি, ভিডিও বার্তা, গবেষণা, আলোকচিত্র বা অন্য যেকোনো সৃজনশীল উপায়ে পাঠানো যাবে। লক্ষ্য, দূষণের প্রভাবকে কেবল পরিসংখ্যান নয়, মানবিক অভিজ্ঞতার ভাষায় তুলে ধরা।
‘কোথায় সেই বিশুদ্ধ বাতাস, যেখানে আমি মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারি’—এই শিরোনামে উদ্যোগটি আয়োজন করেছে ঢাকার শিল্পভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম শালা-আর্টিস্ট কোলাব। আয়োজকদের ভাষ্য, ভয়াবহ বায়ুদূষণের বাস্তবতায় বসবাস করা নাগরিকেরা এখানে নিজেদের গল্প ভাগ করে নিতে পারবেন।
নির্বাচিত কাজগুলো নিয়ে রাজধানীর শালা নেবারহুড আর্ট স্পেস–এ একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু শিল্প প্রদর্শনী নয়; বরং নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের কাছে নাগরিকদের দাবি তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। তাঁদের বক্তব্য, বিশুদ্ধ বাতাস কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক মানবাধিকার।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তিগত গল্প, স্মৃতি, কবিতা বা অনুভূতি পাঠাতে পারবেন। বায়ুদূষণের কারণে হওয়া চর্মরোগ, হৃদ্রোগ বা অন্য শারীরিক জটিলতার বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি ছবি, একিউআইয়ের স্ক্রিনশট, প্রাসঙ্গিক গবেষণার তথ্য, আঁকা ছবি, আলোকচিত্র বা ভিডিও বার্তাও জমা দেওয়া যাবে। নিজের এলাকার বাতাস নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণও গ্রহণযোগ্য।
শিল্পী, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, অভিভাবক, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী কিংবা সাধারণ নাগরিক—ঢাকার যেকোনো বাসিন্দাই এতে অংশ নিতে পারবেন। আয়োজকদের ভাষায়, ‘আমরা সবাই এই বাতাসের অংশীদার; তাই প্রত্যেকের কণ্ঠই গুরুত্বপূর্ণ।’
আবেদনের শেষ সময় ২০ মার্চ ২০২৬। নির্ধারিত গুগল ফরমের মাধ্যমে কাজ জমা দেওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে যোগাযোগের ইমেইলও প্রকাশ করা হয়েছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ এখন আর কেবল পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দূষিত বায়ু কেবল ফুসফুসে নয়, রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের নানা অঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, লিভারের জটিলতা, ত্বকের সংক্রমণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘Somatic Archive’ বা শারীরিক স্মৃতিশালা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের মতে, প্রতিটি একিউআই সংখ্যার পেছনে একটি মানবিক গল্প থাকে। সেই গল্পগুলো একত্র করে দূষণের প্রভাবকে দৃশ্যমান করাই তাঁদের লক্ষ্য।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, নীরব থাকা মানেই এই সংকটকে মেনে নেওয়া। তাই এখনই সময় দূষিত বাতাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার এবং সম্মিলিতভাবে বিশুদ্ধ বাতাসে বাঁচার অধিকার দাবি করার।
সিএ/এমই


