রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে গত রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের বরাত মতে, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ থেকে। প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হলেও তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, মধ্যরাতে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে অভিযোগ করেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “ছাত্রদলের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। প্রতিহত করা হবে এবং গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।” তিনি আরও বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ছাত্রদলের রক্ত ঝরেছে এবং গত বছরও প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মবের শিকার হয়েছে।
অপরদিকে ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে ছাত্রদল কর্মীরা রামদা, রড ও দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, “ক্যাম্পাসে সবার সহাবস্থান বিঘ্নিত হলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।”
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রাবাস প্রশাসন বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবে। কেউ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও আছে।
সিএ/এমই


