রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা স্থানে জমে থাকা পানি থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তারা থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তাহেদী কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে। পরিবারটি পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকত।
শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা তারাবির নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় তাহেদী বাসা থেকে বাইরে খেলতে বের হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটির বাবা বাইরে থেকে ফিরে তাকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানির মধ্যে শিশুটিকে দেখতে পান। সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ বাসায় নেওয়া হয় এবং খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
স্বপন মিয়া বলেন, আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেট ভর্তি পানি থাকবে। অথচ তার পেটে কোনো পানি নেই। মুখের মধ্যে অনেকটা বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানি খেলেতো সেগুলো মুখে থাকার কথা না। এ মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলেই বোঝা যাবে, সে একা বাসা থেকে বের হয়েছে, নাকি কেউ নিয়ে গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে থানার সামনে জড়ো হন। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা বলেন, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবি তুলে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে অবস্থান নেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং তা সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করা হলেও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
সিএ/এএ


