ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। এতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলেন। তাঁরা বলেন, গত সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর পুলিশ অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। নাইমুদ্দীন কোনো অপরাধ করেননি, তবুও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। রাস্তাঘাটে পুলিশ কাউকে বিনা কারণে মারবে, এই অধিকার কে তাদের দিয়েছে? মানুষ কি এখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে পারবে না? রাস্তা কি পুলিশের সম্পত্তি? ডিসি মাসুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—ডিসি মাসুদসহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, ক্যাম্পাসের ভেতরে–বাইরে সব ধরনের অযাচিত পুলিশিং বন্ধ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে একই ঘটনায় দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আরমানুল হক। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশের সংস্কারের জন্য কমিশন গঠিত হয়েছিল। সেই কমিশন একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে শুধু পোশাক বদলের কাজটি করা হয়। এটি বাদে আর কোনো পরিবর্তন তাঁরা দেখেননি। ফলে পুলিশ আগেও যে অন্যায় আচরণ সাধারণ জনগণের সঙ্গে করত, এখনো তা অব্যাহত রেখেছে। তাঁরা এই পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করছেন।
মানববন্ধনে ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা যদি পরিসংখ্যান ঘাঁটি, তাহলে দেখব, যে দেশে তার নাগরিকেরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে না, খোলা মাঠ থাকে না, আড্ডা দেওয়ার জায়গার অভাব থাকে, সে দেশে অপরাধপ্রবণতা অনেক বেশি হয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকদের অবাধ চলাচলের ওপর পুলিশি খবরদারি দেশের জন্য ভালো কিছু আনবে না। এর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের পুলিশ যেভাবে শারীরিক আক্রমণ করছে, নাগরিকদের ব্যক্তি সম্মানের ওপর আক্রমণ করছে, তা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। গত রাতে নাইমুদ্দীনের ওপর আক্রমণের ঘটনায় আমরা ডিসি মাসুদের অপসারণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার দাবি করি।’
সিএ/এমই


