রাজধানীর রমনা থানা এলাকায় পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়েছিলেন এক গৃহবধূ রুপা আক্তার (৩২)। বুধবার (৭ জানুয়ারি) তার ফোনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সহায়তা না করে ফিরে যায় বলে অভিযোগ করেছেন রুপা। পুলিশ চলে যাওয়ার পর স্বামী জালাল উদ্দিনের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনা ঘটে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রমনা থানাধীন মগবাজার মোসলেম উদ্দিন টাওয়ারের অ-১ নিজ ফ্ল্যাটে। ভুক্তভোগী রুপা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বামী পারিবারিক কলহের জেরে আমার পেটে ইলেকট্রিক শক দেন। পরে অ্যান্টিকাটার নিয়ে আমাকে তাড়া করলে আমি নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করি। জালাল দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কার কথা জানাই। কিছুক্ষণ পর পুলিশ বাসায় আসে এবং স্বামীর সঙ্গে কথা বলে চলে যায়। আমি চিৎকার করলেও পুলিশ কোনো কথা শোনেনি। পুলিশ চলে যাওয়ার পর স্বামী আমাকে অ্যান্টিকাটার দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিতে থাকে। ছুরিকাঘাতে গলায়, হাতে, ঘাড়ে ও পেটে বড় ক্ষত হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে বাইরে পালিয়ে রাত ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হই।’
চার সন্তানের মা রুপা অভিযোগ করেন, ‘১৬ বছরের সংসার জীবনে ২০১৮ সাল থেকে স্বামী নানা অজুহাতে আমাকে অত্যাচার করতেন। কখনো টাকা চুরি, কখনো পরকীয়ার অভিযোগে মারধর করতেন। শত অত্যাচার সহ্য করেও সংসার ছাড়িনি। একাধিকবার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দিতে গিয়েও ফিরে এসেছি। স্বামী জালাল উদ্দিন পেশায় কাস্টমস ইন্সপেক্টর এবং ঢাকা এয়ারপোর্টে কর্মরত, পাশাপাশি ব্যবসা করেন।’
রমনা থানার ওসি মো. রাহাত খান বলেন, ‘৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। স্বামী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই। ভুক্তভোগী বা তার আত্মীয়ের মাধ্যমে অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এএ


