ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (দুবাই) মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
রোববার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
লিখিত জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে জনশক্তি রপ্তানি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী প্রেরণে বাধা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান বাজারগুলোকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাপানের শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং জাপানি ভাষায় দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইএম জাপানের মাধ্যমে কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানে ‘স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার’ পাঠানোর ক্ষেত্রে ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বিদেশে দক্ষ চালকের চাহিদা পূরণে এক লাখ ড্রাইভার তৈরির একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের রি-স্কিলিং ও রিকগনিশনের জন্য RPL কার্যক্রম চালু রয়েছে।
ভাষা দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চাইনিজ, আরবি, ইতালিয়ান ও জার্মান ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নেটিভ স্পিকার নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে গমনেচ্ছুদের জন্য ‘তাকামল’ এর মাধ্যমে ৭৯টি পেশায় স্কিল ভেরিফিকেশন পরীক্ষা চালু রয়েছে।
সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কম খরচে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম স্বচ্ছ করতে বিএমইটি থেকে লাইসেন্স প্রদান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার প্রবাসীদের সুরক্ষায় কাজ করছে।
সিএ/এএ


