ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সব ধর্মের মানুষকে সমানভাবে দেখা হয় এবং দেশের উন্নয়নে সবার সমান দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সব ধর্মের মানুষের।’
রোববার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশ-এর সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বড়দিনের অগ্রিম আমন্ত্রণ জানান। পরে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীকে একটি সম্মাননা স্মারক প্রদান করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আসুন, সবাই মিলে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে একটি বেটার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই।’
বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। অতীতের একটি প্রচলিত ধারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে বলা হতো অন্য ধর্মাবলম্বীরা বিএনপিকে ভোট দেয় না, কিন্তু এবারের নির্বাচনে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং সব ধর্মের মানুষ তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। এমন পরিস্থিতি ছিল যেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা দেশের ওপরও প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ক্রিস্টোফার অধিকারী। তারা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তারা বলেন, জনকল্যাণে বিএনপির নেওয়া কিছু উদ্যোগ যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ, এবং বিভিন্ন ধর্মীয় পেশাজীবীদের জন্য ভাতা প্রদানের পদক্ষেপ ইতোমধ্যে মানুষের উপকারে আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি তারা সংসদে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসন এবং ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিও জানান।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা জানান, তার জন্য সাত হাজার চার্চে প্রার্থনা করা হয়েছে এবং এখন প্রধানমন্ত্রীর জন্যও নিয়মিত প্রার্থনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সিএ/এএ


