সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ সচিব কমিটি চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, সচিব কমিটি পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে সে অনুযায়ী সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
রোববার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রস্তাবিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পর্যালোচনা কমিটির কার্যক্রম চালু হলে তারা জাতীয় বেতন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ দেবে। এরপর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। গত ২২ জানুয়ারি জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে। প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ধাপের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।
কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, এই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে।
তবে নতুন সরকারের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে এ কমিটি কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি তাদের পর্যালোচনা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
সিএ/এএ


