রোববার (৭ ডিসেম্বর) দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি দেশের নেই এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপ এ পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন-ওএইচআরএলএলএস একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সভায় উপস্থাপন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ঋণ এবং অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ ক্রমেই বাড়ছে, যা অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এসব কারণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘ সময় এই চাপ বহন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার হঠাৎ করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। তবে সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।
সিএ/এএ


