সরকার পরিচালনা ও দলীয় রাজনীতিকে পৃথকভাবে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একদিকে সরকারের কার্যক্রমে জনআস্থা বাড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রায় তিন মাস পর অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত কাউন্সিলের দিকে যাওয়া যায়, সেই বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব। কোরবানির ঈদের আগে সম্ভব নয়। কয়েক মাস সময় লাগবে।’ পাশাপাশি সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ড নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার গঠনের পর দলীয় কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সিনিয়র নেতারা মত দেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমে গতি কমেছে। অনেক কমিটির মেয়াদ দীর্ঘদিন আগে শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। এতে সংগঠন দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।
এই পরিস্থিতিতে সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সব অঙ্গসংগঠনকে পুনর্গঠন ও সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। ত্যাগী ও তরুণ নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে মত দেন নেতারা। পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত নারীদের মনোনয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
জানা গেছে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে একটি বিশেষ টিম গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যও পর্যালোচনা করা হয়।
জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। এতে বলা হয়, বিএনপি সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে থাকলেও কিছু বিষয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তবে সেই ভিন্নমত থাকা মানেই সনদ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসা নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
সিএ/এএ


