জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, এই সনদ কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ: আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী জনগণের ইচ্ছাই ওই সরকারের বৈধতার উৎস।’ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষ সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, ‘গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করার কোনো সুযোগ নেই। সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে বিএনপি কেন দূরে সরে যাচ্ছে তা বোধগম্য নয়। ১৬টির মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করছে তারা। সব কিছু বাতিল হয়ে যাবে আর জনগণ বসে বসে দেখবে তা আর হবে না।’
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘদিনের এবং তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তিনি বলেন, ‘একাত্তর থেকে এ পর্যন্ত আমরা বার বার সংকট দেখছি।’
জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘একদিনে নির্বাচন ও একদিনে গণভোট হয় কিন্তু রাজনৈতিক সংকট আদালতে এবং সংসদে সমাধান হয় না।’
আলোচনায় আরও অংশ নেন জামায়াত নেতা মতিউর রহমান আকন্দ, অধ্যাপক আক্তার আলী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আমিন আহমেদ আফসারী, আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী এবং রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও সুসংহত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সিএ/এএ


