লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় সমাবেশ, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়।
‘লিঙ্গীয় বৈষম্য দূর করি, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সুফিয়া কামাল ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো ভেঙে সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই নারী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এ লড়াইয়ে থেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ সাম্প্রতিক সময়ে নারীবিদ্বেষী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং ধর্মকে নারীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করার প্রবণতার সমালোচনা করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালসহ সকল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৬ বছরের যাত্রায় সংগঠনটি নারী আন্দোলনের ভিত শক্ত করেছে এবং সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন প্রজন্মকে অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঘোষণা পাঠ করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। আলোচনায় অংশ নিয়ে সহসভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না, অধ্যাপক সেলিম রায়হান, সাংবাদিক মাহবুব আজীজ, ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার, তরুণ সংগঠক সৈয়দা সুরঞ্জনা এবং গবেষণা সহকারী মাহামুদ খালিদ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সত্ত্বেও নারীর অধিকার ও সমতার ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব নারীর ওপর কীভাবে পড়ছে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক মাহবুব আজীজ বলেন, সম্পদে সমঅধিকার ও রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। তিনি অসাম্প্রদায়িক ও সমান মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনে ঐক্যের ওপর জোর দেন।
হেলেন মনীষা সরকার বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে পারা সংগঠনের একটি বড় অর্জন। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তরুণ সংগঠক সৈয়দা সুরঞ্জনা বলেন, এই উদযাপন কেবল একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়, বরং নারী আন্দোলনের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন। অন্যদিকে মাহামুদ খালিদ শিক্ষা কারিকুলামে নারী আন্দোলন বিষয়ে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান, যাতে ভুল ধারণা দূর হয়।
সার্বিকভাবে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিএ/এএ


