নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৯০ বছর বয়সী আবদুল মজিদকে সরকারি তালিকায় ‘মৃত’ দেখানো হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর বয়স্ক ভাতা। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে ভাতাবঞ্চিত এই বৃদ্ধ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে।
সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি আবদুল মজিদ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন আবদুল মজিদ। তবে প্রায় দেড় বছর আগে হঠাৎ করেই তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাঁকে ‘মৃত’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আবদুল মজিদ বলেন, আগে ভাতার টাকা পাইলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। দেড় বছর ধরে বয়স্ক ভাতার টাকা পাই না। বুড়া হইয়া গেছি, ভালো কিছু খাইতে মন চায়। যদি আবার টাকাডা পাইতাম, একটু শান্তিতে বাঁচতে পারতাম।
তাঁর ছেলে আবুল বাসার জানান, ভাতা বন্ধ হওয়ার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তালিকায় তাঁর বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি অফিসে গেলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।
এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফকির বলেন, চোখের সামনে জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়। দ্রুত ভুল সংশোধন করে তাঁর প্রাপ্য ভাতা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আবদুল মজিদকে মৃত দেখানো হয়। পাশাপাশি একটি মৃত সনদও জমা দেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মারা গেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর স্থলে একই এলাকার আবুল কালামকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আবদুল মজিদকে মৃত হিসেবে দেখাননি।
দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তালিকা ও প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে আবদুল মজিদকে মৃত দেখানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুতই তিনি পুনরায় ভাতা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এএ


