লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ট্রলারে চরম খাদ্য ও পানির সংকটে পড়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন যুবক রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা এই মর্মান্তিক খবর পান। একই বোটে থাকা একজন বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা যায়।
নিহতরা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের মো. নুরুজ্জামান সরদার ওরফে ময়না, সাজিদুর রহমান, সাহান এহিয়া এবং রাজানগর ইউনিয়নের মুজিবুর রহমান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা সবাই ভালো জীবিকার আশায় অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে সেখান থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
বেঁচে ফেরা এক যাত্রীর বরাতে জানা গেছে, বোটে দীর্ঘ সময় খাবার ও পানির অভাবে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে একে একে অনেকের মৃত্যু ঘটে। পরে মৃতদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গ্রামে ফোনে এই মৃত্যুর খবর পৌঁছায় এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনও বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছে, তবে বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তারা লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিস উপকূলে পৌঁছানোর আগেই অন্তত ২২ জন মারা যান। এ ঘটনায় ২১ জন বাংলাদেশিসহ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


