মাজার ভাঙচুরকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রচিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, যারা মাজার ধ্বংসে জড়িত তারা কোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারে না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে একটি ওরস ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘সুফিবাদ ও আত্মদর্শন’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে মাজারকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মাজার ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা মাজার ভাঙছে তারা একদিকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ধর্ম সম্পর্কে এমন একটা ধারণা দিতে চাইছে যা আদৌ ধর্ম নয়। মাজার ভাঙা একটি ফৌজদারি অপরাধ। যারা মাজার ভাঙে তারা অপরাধী, তাদের শাস্তি পেতেই হবে।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগের সরকার চেষ্টা করেছে, কিন্তু মাজার ভাঙা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়ে আমরা আশা করব যেন কোনো মাজার ভাঙা না হয়। যারা মাজার ভেঙেছে, স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই আমরা বুঝব এ সরকারের মাজারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন।’
সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য থাকলে ওয়াজ বা গানের মাধ্যমে বলা যেতে পারে। কিন্তু বিশেষ পক্ষ নিয়ে অন্য পক্ষকে দমন বা নির্যাতন করা আইনবিরোধী কাজ। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য যখন-তখন যাকে-তাকে ভারতীয় দালাল, ইসকনের দালাল বা বিজেপির দালাল বলে অভিহিত করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এদের বিষয়ে আমাদের সকলকে সাবধান হতে হবে।’
মাজারকেন্দ্রিক সংস্কৃতিকে তিনি বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই সংস্কৃতিতে সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এটি সমাজে সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বাড়াতে সহায়ক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. খালিদ সাহিদ বিদ্যুৎ। আলোচনা শেষে আধ্যাত্মিক ও বাউল সংগীতের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সিএ/এমআর


