ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় ঢাকামুখী মানুষের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলোতে যাত্রীসংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে লঞ্চযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও ঘাটে নামার পর থেকেই যাত্রীদের ভোগান্তি শুরু হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার পর থেকেই একে একে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত যাত্রীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যাগপত্র নিয়ে ঘাটে নামেন।
তবে ঘাটে নেমেই তাদের পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। অতিরিক্ত যাত্রী ও ব্যাগপত্র সামলাতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যেই পরিবহন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যেসব সিএনজি ও রিকশা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করছে।
সামাদ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এসেছি, সঙ্গে ছোট বাচ্চা আছে। কিন্তু সিএনজি ও রিকশা চালকরা নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অপেক্ষা করছেন, কেউবা বেশি ভাড়া দিয়েই রওনা হচ্ছেন।’
বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেককে ঘাট এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর তদারকি থাকলে এভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা সম্ভব হতো না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। তাদের মতে, ঘাট এলাকায় পরিবহন ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


