ফেনীতে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও তা তৈরির সরঞ্জামসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ জানায়, উচ্চশিক্ষিত ওই যুবক ইউটিউব দেখে জাল টাকা তৈরির কৌশল শিখেছিল। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল সে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য জানায়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে জেলার শহরতলীর রানীরহাট বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক ফারুক আহম্মেদ ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ এলাকার মৃত মো. আলী আহাম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কোরাইশ মুন্সি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রানীরহাট বাজারে জাল টাকাসহ তাকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ১০০০, ১০০ ও ২০ টাকার নোটসহ মোট ৫ হাজার ৬২০টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানান, দাগনভূঞা উপজেলার কোরাইশমুন্সী বাজারে একটি কম্পিউটার দোকানের আড়ালে তিনি জাল টাকা তৈরি করতেন। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মার্কেটিং বিষয়ে অনার্স শেষ করার পর গ্রাফিক্স ডিজাইনের কোর্স করেন তিনি। পরে ইউটিউব ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখে নেন।
অল্প সময়ের মধ্যে বেশি লাভের আশায় তিনি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন এবং ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা করেন।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ টাকা সমমূল্যের ছাপানো ও আংশিক ছাপানো জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
এ সময় জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ইপসন মাল্টি কালার প্রিন্টার, ডেল মনিটর, গিগাসোনিক প্রসেসর, পেনড্রাইভ, এ–ফোর কাগজ, ফটো পেপার, কাটার, স্কেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, ‘আটক আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
সিএ/এমআর


