কারাবন্দী লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের অবিলম্বে মুক্তি এবং যথাযথ চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পাঁচটি সংগঠন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছে, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব উদ্বেগ তুলে ধরে সংগঠনগুলো। তারা জানায়, বর্তমানে কারাবন্দী অবস্থায় থাকা শাহরিয়ার কবিরের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
যেসব সংগঠন এ যৌথ আহ্বান জানিয়েছে সেগুলো হলো বেলজিয়ামভিত্তিক সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম (এসএডিএফ), ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইইউ ও যুক্তরাজ্য), জার্মানির ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স।
সংগঠনগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭৫ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবির দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং দাঁড়িয়ে থাকাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন গত ৫ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে শাহরিয়ার কবিরের আটককে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে জাতিসংঘের ইচ্ছাকৃত আটকসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের ‘ওপিনিয়ন নং ৪০/২০২৫’-এ শাহরিয়ার কবিরের আটককে ইচ্ছাকৃত, অবৈধ ও দণ্ডমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর তাৎক্ষণিক মুক্তি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের হেফাজতে মৃত্যু এবং একই সময়ে একশর বেশি বন্দীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, শাহরিয়ার কবিরের জীবনের ঝুঁকি এখন স্পষ্ট এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ইউরোপ ও বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই যৌথ আবেদনে নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের (ইইউ ও যুক্তরাজ্য) ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, জার্মানির ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশের ক্লাউস স্ট্রেম্পেল, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্কের তারিক গুনেরসেল এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্সের অধ্যাপক এ বি এম নাসির।
তাঁরা সরকারের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো শাহরিয়ার কবিরসহ সব প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীর অবিলম্বে মুক্তি, জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং দেশের সব কারাগারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলা।
সিএ/এমই


