ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়টি সংসদীয় আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে করা পৃথক নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। এসব আবেদনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আবেদনও রয়েছে। সবগুলো আবেদনের শুনানি বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ–সংক্রান্ত আদেশ দেন হাইকোর্ট। আবেদনকারী নয়জনের মধ্যে চারজন বিএনপির এবং পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনগুলো হলো খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঢাকা-১১, পিরোজপুর-২, মাদারীপুর-১, নীলফামারী-২, কক্সবাজার-৪, ঢাকা-১০ এবং চুয়াডাঙ্গা-১।
আবেদনগুলোর মধ্যে আটটি আসনে ভোটে কারচুপি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে নির্বাচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে আবেদন করা হয়েছে।
বিএনপির চার প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. শরীফুজ্জামান, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার এবং নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম।
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩ ভোট। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদ পারভেজ ২ লাখ ১১ হাজার ৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। ওই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহরিন ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট। সেখানে জামায়াতের আলফারুক আব্দুল লতীফ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ ও শুনানির জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। ওই বেঞ্চের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় নয়টি নির্বাচনী আবেদন মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। শুনানিতে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় এবং আইনজীবী আকতানুর নাহারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বরগুনা-২ আসনে সুলতান আহমদ, পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদী, কক্সবাজার-৪ আসনে নুর আহমদ আনোয়ারী এবং ঢাকা-১০ আসনে মো. জসীম উদ্দীন সরকার।
খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। সেখানে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট। এই আসনে বিএনপির মো. নূরুল ইসলাম ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াতের শামীম সাঈদী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। এখানে বিএনপির আহম্মদ সোহেল মনজুর ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকার পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট। ওই আসনে বিএনপির শেখ রবিউল আলম ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
কক্সবাজার-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট। সেখানে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
হাইকোর্টে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও এম বেলায়েত হোসেন।
আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩৬ জন প্রার্থীর পৃথক ৩৬টি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।
সিএ/এমই


