জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বিরোধী দলের অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতিই ৫ ও ৬ আগস্ট তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। তাদের দু-একজন এই সংসদেও আছেন। তাহলে এখন এই বিরোধিতা কেন?’
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা ৫ আগস্টের বিকেল বেলা এবং ৬ আগস্ট আলাপ-আলোচনা করেছেন, যাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে–সেই রাষ্ট্রপতিকে আজ কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? তাদের দলের (বিরোধী দল) দু-একজন তো এই সংসদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। এই স্ববিরোধিতা কেন, সেটা তাদেরই জিজ্ঞেস করা উচিত।’
তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক কালচারে ওয়াকআউট নতুন কোনো ঘটনা নয়, তারা এটি করতেই পারেন।’
সংসদের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, সংসদ অবশ্যই অর্থবহ হবে এবং এটি জাতীয় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
এর আগে বিকেলের অধিবেশনে এক পর্যায়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পরই বিরোধীদলীয় সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’—এমন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদ কক্ষে অবস্থান নেন। পরে হট্টগোলের একপর্যায়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
সিএ/এমআর


