চাঁদপুর শহরে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই ধরনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পাম্পে এই পরিস্থিতি দেখা গেছে।
সরেজমিনে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহরের আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও রিজার্ভারে পর্যাপ্ত অকটেন মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও প্রতি মোটরসাইকেলের জন্য মাত্র দুই লিটার করে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে চালক ও পাম্প কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে আমাদের কিছু আসে যায় না। দেশে তেলের সংকট চলছে, তাই আমরা নিজেদের নিয়মেই রেশনিং করছি। তেল বিক্রি করব কি করব না, সেটি আমাদের একান্ত বিষয়।
তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ লোকমান হোসেন এই দাবি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, ডিপোসহ কোথাও জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. এরশাদউদ্দিন জানিয়েছেন, কোনো ফিলিং স্টেশন যদি অযৌক্তিকভাবে তেল আটকে রাখে বা রেশনিং করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
চাঁদপুর জেলায় মোট ১৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় সাধারণ যানবাহন চালক ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক চালককে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
সিএ/এমআর


