রাজশাহীতে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় গ্রাহকদের মধ্যে তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা যাচ্ছে মোটরসাইকেল চালক ও গাড়িচালকদের।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও ২০০ টাকার বেশি এবং কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। আবার কিছু পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে হঠাৎ করেই জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই রাজশাহী নগরীতে পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই দিন বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন মোটরসাইকেল চালকদের চাহিদামতো তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
নগরীর সাগরপাড়া এলাকার আফরিন তেল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি বন্ধ রয়েছে। পাম্পের কর্মচারী মানিক জানান, বিকেলের পর থেকে তেল না থাকায় পাম্পটি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গাড়িতে অকটেন নিতে গিয়ে কোথাও পাননি। ফিলিং স্টেশন থেকে তাকে জানানো হয়েছে, রোববারের আগে অকটেন পাওয়া নাও যেতে পারে।
কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দুটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে তিনি এক হাজার টাকার পেট্রোল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তবে পাম্পগুলোতে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও এখন পর্যন্ত জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি।
তালাইমারি এলাকার নয়ান ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা রিপন মাহমুদ বলেন, পেট্রোলের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। কয়েকটি পাম্প ঘুরে ট্যাংক ভরার চেষ্টা করছেন তিনি। তার মতে, সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না এবং গ্রাহকদেরও সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তেল না থাকায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। কেউ নিয়মিত বাইক ব্যবহার না করলেও অতিরিক্ত তেল কিনছেন। আবার কেউ কেউ একাধিক পাম্প ঘুরে ট্যাংক ভর্তি করে বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন, যার ফলে সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সিএ/এএ


