কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে আব্দুর রহিম মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই সলিম উল্লাহ।
এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুজনের মৃত্যু হলো। আব্দুর রহিম কলাতলী এলাকার মৃত মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে। আগুনে তার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ আবু তাহের (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মঙ্গলবার সকালে তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। আবু তাহের কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমি উদ্দিন জানিয়েছেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন জ্বলে ওঠে।
বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এতে প্রায় ৩০টি যানবাহন, চারটি বাড়ি এবং অন্যান্য অবকাঠামো পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ শুক্রবার জানান, চিকিৎসাধীন ছয়জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, আব্দুর রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ এবং মেহেদি ও মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছেন।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রবিবার রাতে পাম্পের মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে গ্যাস পাম্প পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ করা হয়নি। যা বিস্ফোরক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।
সিএ/এএ


