ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, করপোরেশনের বর্তমান আর্থিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রশাসক জানান, সাবেক প্রশাসক জাতীয় নির্বাচনের দুদিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং শেষ কর্মদিবসেও ৩৪টি ফাইলে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, করপোরেশনের হাতে এখন মাত্র ২৫ কোটি টাকা রয়েছে। রাজস্ব খাতের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, প্রতি মাসে বেতন বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়। ফলে অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য হাতে খুব সীমিত অর্থ থাকে। এ অবস্থায় উন্নয়ন কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নতুন প্রশাসক জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেখান থেকে আশ্বাস পেয়েছেন। তিনি বলেন, তবে, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমরা হতাশ নই। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব। জনকল্যাণে যতটুক সেবা দেয়ার প্রয়োজন আছে আমরা সেই সেবা দেয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করব। জনকল্যাণে আমাদের যে অঙ্গীকার আছে সেটাকে আমরা বাস্তবায়ন করব।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাতদিন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। তার ভাষায়, মাত্র সাতদিন বয়স হয়েছে আমাদের। আপনারা (সাংবাদিক) আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করবেন। আমাদের কাজ যাতে আরো সহজ উপায়ে করতে পারি এই ব্যাপারে আপনারা সহযোগিতা করবেন।
খাল খনন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাল রয়েছে। এসব খালে পুনরায় বর্জ্য অপসারণ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করা হবে। যেসব স্থানে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে সেখানে এস্কেভেটরের মাধ্যমে খনন কার্যক্রম চালানো হবে। অতীতে মনিটরিংয়ের ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করে তিনি ভবিষ্যতে নিয়মিত তদারকির আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, এই যে খাল খননের যে কর্মসূচিটা সেটা আমাদের পার্টির ম্যানিফেস্টোতে আছে এবং এই খাল খনন না করলে সামনে ডেঙ্গুর যে আবির্ভাব ঘটবে সেটা আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত হতে হবে। তাই আমরা পুনরায় ও আগাম এটা করার চেষ্টা করছি। আর যেখানে খালের পানি আটকে যাচ্ছে, নর্দমা বা ময়লা আবর্জনা, ময়লার স্তুপ হয়ে আছে সেটা নিরসনে আমরা প্রতিদিন একদম রুটিন মাফিক কাজগুলো করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
দখলদার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঈদের পর থেকে কার্যক্রম শুরু করা হবে। আইন ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে। নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষদের ক্ষেত্রে আলোচনা করে বিকল্প বাসস্থান বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সিএ/এমআর


