ইরানের ড্রোন হামলায় সৌদি আরামকোর রাস তানুরা তেল শোধনাগারে আগুন লাগার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বাংলাদেশও উদ্বিগ্ন। অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যে ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, বিশ্লেষকরা বলছেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রতি ব্যারেল দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এলএনজির দাম ২০–২৫ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশের মোট অপরিশোধিত তেলের আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ, যার বেশির ভাগ আসে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধ থাকায় সরবরাহের ধারাবাহিকতা অনিশ্চিত। বিপিসি বলছে, ডিজেলের মজুত দুই লাখ ১৭ হাজার টন, পেট্রল ২১ হাজার টন, অকটেন ৩৪ হাজার টন এবং ফার্নেস তেল ৭৮ হাজার টন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, একাধিক চালান বিলম্বিত হলে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিকল্প উৎস ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এলএনজির সরবরাহেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ হচ্ছে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। বিদেশ থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমতে পারে, লোডশেডিং বাড়তে পারে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এ বছর ১১৫টি কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে কাতার থেকে ৪০টি, ওমান থেকে ১৬টি এবং খোলাবাজার থেকে ৫৯টি কার্গো আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা, সৌদি শোধনাগারের স্থগিত কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি—এই তিনটি চাপ একসঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। সাবেক বিশেষজ্ঞ ম তামিম মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সিএ/এমই


