ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর পরিবারের কানাডার টরন্টোতে একটি বাড়ি রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। ২০২৩ সালে আব্দুস সালামের নাম মালিকানা থেকে বাদ দিয়ে তাঁর এক ছেলের নামে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে পুরো মালিকানা মাহবুবুন্নেছার নামে রূপান্তরিত হয়।
আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টরন্টোর বাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা, কেনার সময় লেনদেন ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা। বাড়িটি কেনা হয়েছিল বুইয়ং-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইনসান ইয়ামের কাছ থেকে।
কানাডায় বাড়ি থাকার বিষয়ে আব্দুস সালাম ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, বাড়িটি তাঁর সন্তানদের। তবে সন্তানদের আয়ের উৎস ও ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেন এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে মামলা করার হুমকি দেন। পরে ঢাকা ওয়াসার কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করা হলেও, আব্দুস সালাম ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং জানিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে লিখতে চাইলে যা মন চায় তাই লেখেন।’
ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে দুই সন্তানকে নিয়ে কানাডায় গিয়েছিলেন মাহবুবুন্নেছা। তিনি নিজেও ঢাকায় সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। সন্তানদের পড়াশোনার সময় কানাডায় নিয়ে যাওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। আব্দুস সালামের দুই ছেলে আবরার মাহের এবং ওয়ালিদ সাহের যথাক্রমে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো (২০২১) ও ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু (২০১৭) থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে আব্দুস সালাম ব্যাপারীর নিয়োগ হয় ১১ নভেম্বর ২০২৫ সালে। তাঁর নিয়োগে তাড়াহুড়া ছিল এবং তিনজনের তালিকায় তার নাম সর্বোচ্চ স্থানে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাঁকেই নিয়োগ দেয়, যদিও অন্য আবেদনকারীরা যোগ্য ও অভিজ্ঞ ছিলেন। সূত্র বলছে, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিভাগীয় মামলা ছিল। তবে বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রভাব ও পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি এমডি পদে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এমন সম্পদ অর্জন অস্বাভাবিক এবং এর যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলাকালে আব্দুস সালামকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এখনো বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পর্যবেক্ষণাধীন এবং বিস্তারিত জানার পরে মন্তব্য করতে পারবেন।
সিএ/এমই


