অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আগামী বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) শুরু হচ্ছে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা দুইটায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন।
মঙ্গলবার ( ৫ ডিসেম্বর) বেলা দুইটায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান থাকবে। মোট ইউনিটের সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর সাজানো হয়েছে, যেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মেলায় বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল থাকবে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবারের মেলাকে পরিবেশ-সচেতন ও ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে এবং মশকনিধনের ব্যবস্থা থাকবে। স্টল, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, খাবারের দোকানসহ সব আয়োজনেই পাট, কাপড় ও কাগজের মতো পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মেলার বিন্যাস গতবারের মতো রাখা হলেও কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থান বিবেচনায় বাহিরপথ মন্দির গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ থাকবে। খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সাজানো হয়েছে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য তারাবিহ নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। নামাজের স্থান, প্রসাধনকক্ষ ও অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।
শিশুদের জন্য পৃথক ‘শিশুচত্বর’ রাখা হয়েছে, যেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট থাকবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত মূল মঞ্চে সেমিনার এবং বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শিশু–কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রবেশ ও বাহিরপথে আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি থাকবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এবারের মেলায় কয়েকটি পুরস্কার প্রদান করা হবে। অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত সেরা গ্রন্থের জন্য দেওয়া হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। শৈল্পিক বিচারে সেরা বইয়ের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য থাকবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জার জন্য দেওয়া হবে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’।
এবার প্রবর্তন করা হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। নতুন অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুণগতমান বিবেচনায় সর্বাধিকসংখ্যক বই প্রকাশের জন্য প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির সচিব ও বইমেলার সদস্যসচিব মো. সেলিম রেজা, জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জি এম মিজানুর রহমান, ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক সরকার আমিন, বর্তমান বাংলা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম এবং কমিউনিকেশন ম্যানেজার ইয়াছিন শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/এমই


