রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ভবনে আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’ ঘিরে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রদর্শনী দেখতে এসে অনেকেই সম্প্রতি সংঘটিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পুড়ে যাওয়া ভবনের ভেতরে শিল্পকর্মের মাধ্যমে সেই ঘটনার স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।
ক্যাননের পরিবেশক জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ এইচ কাফি প্রদর্শনী ঘুরে দেখে বলেন, ‘আমরা আসলেই মানুষ না, অমানুষ! এভাবে কেউ একটি ভবনকে ধ্বংস করে? আমার কিছু বলার নেই। ভাবতেও লজ্জা হচ্ছে যে, আমি মানুষ।’
দুপুরে প্রদর্শনী দেখতে আসেন শিল্পী ঢালী আল মামুন। তিনি শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের কাজের প্রশংসা করে বলেন, এই শিল্পকর্মে তথ্য, উপাত্ত ও অর্থবোধক উপাদানের সমন্বয় ঘটেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের উপস্থাপনা ঘটনার স্মৃতিকে ইতিহাসের অংশ করে তোলে এবং দর্শনার্থীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
অগ্নিদগ্ধ ভবন পরিদর্শন শেষে ঢালী আল মামুন বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানকে এভাবে আঘাত করা, গুঁড়িয়ে দেওয়াটা জবরদস্তি সংস্কৃতির অংশ। আর যেকোনো জবরদস্তিই সংকটজনক। যেটা আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে।’ একই দিনে প্রদর্শনী দেখতে আসেন চিত্রশিল্পী ওয়াকিলুর রহমানও।
প্রথম আলো ভবনে আয়োজিত ‘আলো’ প্রদর্শনীতে পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ শিল্পকর্মের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দেখে অনেক দর্শনার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ প্রদর্শনী শেষে মন্তব্য খাতায় নিজেদের অনুভূতি লিখে যাচ্ছেন।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী প্রথম আলো ভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই অগ্নিদগ্ধ ভবনেই ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের শিল্প প্রদর্শনী ‘আলো’। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনী চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সগর মীর জানান, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে অগ্নিদগ্ধ ভবনটি দেখে তিনি আবেগতাড়িত হন। তবে ভেতরে এসে প্রদর্শনী দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, যারা মব করে ভবন ধ্বংস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ, বিচার না হলে আজ প্রথম আলো, কাল অন্য কারও ওপরে আক্রমণ হবে।
সিএ/এমই


