নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ তিনজন সচিবকে নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা নয়জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রোববার (৭ ডিসেম্বর)
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হওয়া তিন সচিব হলেন—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হওয়া নয়জনের মধ্যে রয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান, এস এম আকমল হোসেন ও কাইয়ুম আরা বেগম; বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী; জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (জ্যেষ্ঠ সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের; ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে সরকার গঠনের আগের তিন দিনে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে সরে যান। তাঁরা হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। পরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে। তিনি এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রশাসনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদসহ অন্তত ১২টি সচিব পদে নতুন নিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
একইভাবে পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ পছন্দের পদায়নের জন্য তদবিরও করছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়। এরপর প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছিল। প্রথম ছয় মাসেই জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের ১ জন এবং অতিরিক্ত সচিব পদের ১৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদের ২৩ জন, গ্রেড-১ পদের ২ জন এবং অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৫১ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরে আরও কয়েকজনকে ওএসডি করা হয় এবং বেশ কিছু পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে পরিবর্তন আনা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দলীয় প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতাই যেন বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ক্ষমতাসীন বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ—বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
সিএ/এমই


