রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় করা মামলায় মো. ফারুক (৫০) নামে এক আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রোববার (৭ ডিসেম্বর)
সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম পুলিশি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহম্মেদ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে আসামির সংশ্লিষ্টতার পক্ষে সাক্ষ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, হামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাটিয়া ধলেশ্বরী পাড় এলাকা থেকে মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মো. রাসেল বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এজাহারনামীয় আসামিরা গ্রিনভিউ হাউজিং এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বাদী মো. রাসেল ও তাঁর বন্ধু মো. মামুন ওই এলাকায় মাদকের স্পট বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা তাঁদের ওপর বিরূপ মনোভাব পোষণ করছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার ৮–১০ দিন আগে মোহাম্মদপুরের বছিলা রোড এলাকার ফুটপাতের দোকানদারদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। তখন বাদী ও তাঁর বন্ধু মামুনসহ স্থানীয় লোকজন এতে বাধা দেন। এ সময় আসামিরা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
পরবর্তীতে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটার দিকে বছিলা রোড এলাকায় বাদী ও তাঁর বন্ধুর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘সামুরাই’সহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁদের জখম করা হয়। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সিএ/এমই


