রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে আড়াই মাস আগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বিকেলে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক ইকবাল আহমেদ জিন্নাহ আদালতে তাঁদের কারাগারে রাখার আবেদন জানান। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিদের আইনজীবীরা বলেন, ‘গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল উদ্দিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেছেন। তাঁরা সেখানে কোনো দলের কর্মী হয়ে যাননি। এরপরও পুলিশ তাঁদের তিন মাস আগের একটি মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আমরা আদালতে জানিয়েছি, এরা সবাই এখনো শিশু। এটা একটা মিথ্যা মামলা। এ মামলার সঙ্গে আসামিদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা আদালতের কাছে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।’
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ধানমন্ডি ৩২–এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।’
পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ধানমন্ডি থানাধীন ৩২ নম্বর রোড থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তাঁদের নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানা গেছে। মামলার ঘটনার তারিখ ও সময়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মিছিলে অংশ নেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ধানমন্ডি থানাধীন ২৮ নম্বর রোডে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আটক করে এবং অন্যরা সরে যান। এ ঘটনার পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মো. আল হেলাল।
সিএ/এমই


