নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতন, হত্যা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলসহ নানা ধরনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঈশ্বরদীর ভেলেপাড়া এলাকায় জেলা রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা আমির ও পাবনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, বিএনপির ক্ষমতাসীনরা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাদের মতোই সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা হাট-বাজার, টেম্পু-বাস-ট্রাকস্ট্যান্ড, অফিস-আদালত দখল করে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী এবং হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পর থেকেই তারা ভোটারদের ওপর হুমকি-ধমকি, মারধর ও ভয় সৃষ্টি করছে।
অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, নির্বাচনের ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে তদারকি করা হচ্ছে। অনেক আসনে দলীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সারাদেশে বিশৃঙ্খলা ও জুলুম সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন থেকেই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা জামায়াত ও জোটের এমপি প্রার্থীর নেতাকর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা, নির্যাতন, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দলীয় অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে।
তিনি পাবনার বিভিন্ন স্থানে ঘটানো নির্যাতনের উদাহরণ তুলে ধরেন। ঈশ্বরদীতে নির্বাচনের পূর্বে নিজের ওপর গুলি চালানো হয়। মহিলা কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও প্রচার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাবনা সদরের হেমায়েতপুর ৯নং ওয়ার্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জোতগড়ি জালালপুরে জামায়াত নেতা আবু সাইদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সাবেক সচিবের বাড়িসহ ইয়াসিন আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
পাবনা পৌরসভা ১৪নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী সবুজের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আতাইকুলায় মহিলা জামায়াত কর্মী হাফসা খাতুন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত রুয়া সদস্যা জয়ীতা খাতুনের বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। সুজানগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে হামলা চালিয়ে ছয় জন কর্মীকে গুরুতর আহত করা হয়েছে এবং অসংখ্য বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জহুরুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, জেলা তালিমুল কোরআন সেক্রেটারি গোলাম রব্বানী খান, যুবায়ের, আটঘাটরিয়া উপজেলা সাবেক আমির আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা সেক্রেটারি সাঈদুল ইসলাম প্রমুখ।
সিএ/এমআর


