রংপুর-৬ আসনের ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারা দুটি ব্যালট এবং চারটি গণভোটের ব্যালট উদ্ধারের দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। বিষয়টি জানার পর পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থল ছিল পীরগঞ্জের হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা রংপুর-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্র।
স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওর নেতৃত্বে নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ রাখার পাশাপাশি ‘মব ভায়োলেন্স’ সৃষ্টি করে। ইউএনও পপি খাতুন জানান, ব্যালটগুলো যাচাই-বাছাই এবং সিজ (জব্দ) করার জন্য যাওয়া হয়েছিল। তবে এলাকাবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ইউএনও বলেন, ব্যালটগুলো সত্য কি না তা তৎক্ষণাৎ যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কারণ সংরক্ষিত ব্যালটের সঙ্গে সিল ও নম্বর মিলিয়ে দেখা দরকার ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সিল মারা ব্যালট পায়। বিষয়টি এলাকাবাসী জানার পর ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। পরে বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের এবং পুলিশের সহায়তায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা প্রথম আলোকে জানান, ইউএনও বের হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে এবং গাড়ির কাচ ভেঙে দেয়।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩,৩৬৯ জন। ভোট গ্রহণ হয়েছে ২,৪০২টি। ধানের শীষ প্রতীকে এসেছে ১,৫৩২ ভোট, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৩২ ভোট। আসনটি জয় করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীন।
এই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছিলেন শাহ আব্দুর রউফ কলেজের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান। তিনি জানান, সব এজেন্টের সামনে ভোট শুরু ও গণনা সম্পন্ন করা হয়েছে। ব্যালট বাক্সের বাইরে পাওয়া ব্যালটের বিষয় কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের দেখা উচিত।
সিএ/এমআর


