শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক মৎস্যখামারি ও তাঁর সহযোগীদের জড়িত থাকার কথা বলা হচ্ছে। নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আহত যুবকের নাম সেলিম পাইক (৩০)। তিনি ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা গেছে সেলিম পাইকের ডান পায়ের রানের হাড় ভেঙে দুই টুকরা হয়ে গেছে। হাড় জোড়া লাগাতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, জেলা শহরের মৎস্যখামারি শাহীন মাদবরের মালিকানাধীন একটি খামারে মাছ চুরির অভিযোগে সেলিম পাইককে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, খামারের শ্রমিকেরা প্রথমে তাঁকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাখেন। পরে খামারের মালিক সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় পিটুনি দেন।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিমকে ধরে খামারের মাঝখান থেকে তীরে নিয়ে আসছেন। এরপর কয়েকজন মিলে গাছের ডাল দিয়ে তাঁকে পেটাচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রশি দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় তাঁর দুই পায়ে সজোরে আঘাত করা হচ্ছে, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন তা প্রত্যক্ষ করছেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মারধরের পর আহত অবস্থায় সেলিমকে ইকুরি এলাকার একটি স্থানে ফেলে রাখা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অভিযুক্ত পক্ষই তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
অভিযোগের বিষয়ে শাহীন মাদবর দাবি করেন, চার মাস আগে তাঁর খামার থেকে মাছ চুরির ঘটনায় সেলিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আবারও সেলিম ও তাঁর সহযোগীরা খামারে প্রবেশ করে মাছ ধরার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে সেলিম আটক হন। তখন তাঁকে মারধর করা হয়।
ডামুড্যা থানা সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি মাছ চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেলিম পাইক বলেন, তিনি মাছ চুরি করেননি। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
সিএ/এমআর


