শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নগর উন্নয়নসহ মোট ১০টি খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘গণমানুষের ইশতেহার’ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইপিডির পক্ষ থেকে এই ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়।
ইশতেহারে সাম্য ও সামাজিক ন্যায়, সুষম ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, সুশাসন ও গণতন্ত্র এবং তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আইপিডির প্রস্তাবনায় আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতা নিশ্চিত করা, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে সরে এসে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইশতেহারে প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ প্রণয়ন, হাওর, চর, পাহাড় ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য আলাদা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, সব মেগা ও বড় প্রকল্পে বাধ্যতামূলক পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন, নদী, বন, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সৌর ও বায়ুভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
কৃষি খাতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ প্রদান এবং খাদ্য মজুত ও বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিনা মূল্যে ও মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিষয়টি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষায় অঞ্চলভিত্তিক ও আয়ের বৈষম্য দূরীকরণ, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, খোলা জায়গা, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণের প্রস্তাবও রয়েছে ইশতেহারে।
আইপিডির পক্ষে ইশতেহার পাঠ করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, এই ইশতেহারের মূল ভিত্তি তিনটি—কল্যাণ, সাম্য ও নায্যতা। তিনি আরও বলেন, ইশতেহারের প্রধান লক্ষ্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বাস্তবে কার্যকর হবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পাবে।
ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইপিডির অন্যতম উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় দেশের বৃহত্তর দিকনির্দেশনা ও সুষম উন্নয়নের বিষয়গুলো এখনও গুরুত্ব পাচ্ছে না, যদিও নির্বাচন খুব কাছাকাছি।
তিনি আরও বলেন, আগামী সরকারকে সব ধরনের আইন প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ ও কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা এবং ন্যায্যতা ও ন্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরহাদুর রেজা, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ এবং বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও অর্থনীতিবিদ নাঈম উল হাসানসহ অন্যরা।
সিএ/এমই


