বড় জনসভা নয়, বরং নারী ভোটারদের নিয়ে ছোট ছোট উঠান বৈঠক—এভাবেই মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবিরের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী শায়লা কবির। দীর্ঘ বক্তৃতার বদলে ঘরোয়া আলাপ-আলোচনা ও গল্পসল্পের মাধ্যমে তিনি সরাসরি নারীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে শায়লা কবির বলেন, ‘বড়বড় জনসভায় গ্রামের নারীরা সংসারের ব্যস্ততা কিংবা পুরুষের বাধার কারণে সেভাবে যোগ দিতে পারেন না। কিন্তু মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকটাই নারী। অথচ তাদের কাছে প্রার্থীরা ইশতেহার পৌঁছে দিতে পারেন না। নারীরাও প্রার্থীর যোগ্যতা মাপতে পারেন না।’
তিনি বলেন, ‘পরিবারের পুরুষদের নির্দেশনা অনুযায়ী নারীরা ভোট দেন। আমি বিষয়টি চিন্তা করে সরাসরি নারীদের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছি। তাদের বোঝাতে চেয়েছি একজন নারীরও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের অধিকার রয়েছে, যোগ্যতাও রয়েছে।’
শায়লা কবির জানান, প্রতিদিন তিনি তিন থেকে চারটি উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। একটি এলাকায় গিয়ে যেকোনো বাড়ির উঠানে প্রথমে দুই-চারজনের সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখানে আরও মানুষ জড়ো হন। এমন উঠান বৈঠকে কখনো কখনো ২০০ থেকে ৩০০ নারী অংশ নেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমেই ভোট চাই না। তাদের এলাকার সমস্যার কথা জানতে চাই। সমাধান কিভাবে সম্ভব—তাদের মুখ থেকেই বের করার চেষ্টা করি। আমাদের উঠান বৈঠকে সাধারণত পুরুষ থাকে না। এতে নারীরা খুব সহজেই নিজেদের কথা প্রকাশ করতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, উনারাই বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও দেন।’
ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে শায়লা কবির বলেন, ‘মানিকগঞ্জের মানুষ, বিশেষ করে নারীরা অনেক আগে থেকেই বিএনপির প্রতি অনুরক্ত। এর অন্যতম কারণ খালেদা জিয়া। এই নারীরা খালেদা জিয়াকে প্রচণ্ড ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে এবং বিশ্বাস করে। তার মৃত্যুতে এই উঠান বৈঠকেই অনেক নারীকে আমি কাঁদতে দেখেছি।’
কারচুপি না হলে এবং নির্বিঘ্নে ভোটাররা, বিশেষ করে নারী ভোটাররা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত বলে মনে করেন শায়লা কবির।
সিএ/এএ


