বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, “‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবেন না। যারা না ভোটের পক্ষে, মানুষ বুঝে নেবে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে। তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় (সিলেট-৬ আসন) ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে স্বপ্নের, সোনার ও ইনসাফের বাংলাদেশ। আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মাবলম্বীর সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সংখ্যাগুরুদের অত্যাচার, জুলুম আর চলবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে কোনো মেহনতি মানুষের ওপর নজরদারি চলবে না। কোনো ব্যবসা চালানোর জন্য বাড়িঘর নির্মাণে চাঁদা দিতে হবে না। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্যই দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমিক দলগুলো মিলিত হয়ে এই নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তুলেছে। এই জোট বিজয়ী হলে কোনো একক দল বা নেতার বিজয় হবে না, বিজয় হবে বাংলার ১৮ কোটি মানুষের।’
মামুনুল হক বলেন, ‘এত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যদি আমরা দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে না পারি, যদি দেশ আবার চাঁদাবাজদের হাতে চলে যায়, যদি ফ্যাসিবাদের দরজা বন্ধ করতে না পারি, তাহলে আমরা গাদ্দার জাতি হিসেবে প্রমাণিত হব। শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ চাঁদাবাজি ও গুণ্ডামির রাজনীতিতে বিরক্ত। এবার ইসলামপন্থীদের বাংলাদেশ হবে। যারা ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি বা গুণ্ডামি করবে, তাদের রাজপথে প্রতিহত করা হবে।’
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবীরা প্রমাণ করেছে, ঐক্যবদ্ধ হতে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই। মানুষ জেগে ওঠলেই সব জালিমকে পালাতে হয়। ফলে আগামীতে কেউ বাংলাদেশের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারবে না।’
এর আগে সকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জে তিনি বলেন, ‘সিলেট-৬ আসনের সঙ্গে আমি যে এলাকায় নির্বাচন করছি, সেই ঢাকা-১৩ আসনের একটি সংযোগ রয়েছে। সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন ভাইয়ের দায়িত্বশীল এলাকা হলো ঢাকা-১৩। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির।’
জনসভায় সিলেট-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
সিএ/এএ


