টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খান রিমান্ড আদেশ মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির (২৫) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের হাসান আলীর ছেলে। তার স্ত্রীও টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইমনের উপর হামলা করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ইমনের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালক অফিস কক্ষে ইমনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসককে উদ্ধার করে প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে এবং পরে টাঙ্গাইল সদর থানায় সোপর্দ করে। জানা গেছে, ইমন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে বর্তমানে ইন্টার্নশিপ করছেন। তার ইন্টার্নশিপ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
রায়হান কবির ইমন গত দেড় মাস ধরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও গাইনি বিভাগে নারী চিকিৎসকদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ, ওয়াশরুমসহ কয়েকটি স্থানে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, এ সময় তিনি ১৪টি ভিডিও ধারণ করেছেন।
সোমবার বিকেলে একজন নারী চিকিৎসক ওয়াশরুমে গেলে সেখানে একটি ক্যামেরা দেখতে পান। পরে তিনি ইমনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নারী চিকিৎসক ক্যামেরাটি ছিনিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনা প্রকাশিত হলে হাসপাতালে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক আবদুল কুদ্দুস অফিস আদেশে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘অভিযুক্ত ইন্টার্নকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি।’
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, ‘খবর পেয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে থানায় আনা হয়। টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এএ


