সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত একটি নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ১৯৭১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্র চাইছিলাম, কিন্তু বাস্তবে পেয়েছি মবোক্রেসি। ফলে ভোটাধিকার এখন আর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; এটি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়েছে। তাই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন: সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা।
সংলাপটি সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তৃতা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ঢাকা মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ দলিত পরিষদের বিভাগীয় প্রধান চন্দ্রমোহন রবিদাস প্রমুখ।
প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‘আত্মপরিচয়ের সংকট আমরা এখনও সমাধান করতে পারিনি। আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে আমরা খুবই দুর্বল। সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। যদি আমাদের চাওয়া এক না হয়, ব্যথা এক না হয়, তাহলে অধিকার কিভাবে রক্ষা হবে? একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা মানুষের কাছে আস্থাভাজন হতে পারব এবং সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।’
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস কথা দিয়েছিলেন কিন্তু রাখেননি। ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো সরকারই সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। চেয়েছিলাম গণতন্ত্র, কিন্তু পেয়েছি মবোক্রেসি। আগামী নির্বাচনে আশা দেখা যাচ্ছে, তবে তা বাস্তবায়িত হবে কি না তা সন্দেহের বিষয়। আমরা চাই সরকার ও বিচার বিভাগ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুক।’
বাসুদেব ধর বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন কি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা আমি সন্দিহান। সংখ্যালঘু ভোটাররা হুমকির কারণে তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে কি না, তা আমরা জানি না। মন্দিরে হামলা হয়েছে এবং হচ্ছে। নিরাপদ ভোট প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
মনীন্দ্র কুমার নাথ উল্লেখ করেন, সংখ্যালঘুদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত প্রায় ৬০টি আসন থাকা সত্ত্বেও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপে অভাব রয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের তৎপরতার অভাব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বঞ্চনা দীর্ঘস্থায়ী করছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্য দুর্বল করছে।
সভাপতির বক্তব্যে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বহু নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু সেগুলো সঠিক ছিল না। জুলাই আন্দোলনের পর আশা ছিল ভালো ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হবে, কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না। সংখ্যালঘুদের জন্য রাজনৈতিক দলের মনোভাবও সন্তোষজনক নয়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসন নিশ্চিত হলে সকল সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।’
সিএ/এএ


