রাজধানীর উত্তরায় ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্যের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। বাবা, ছেলে ও ভাতিজির একসঙ্গে মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো গ্রাম। নিহতদের দাফনের জন্য পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হচ্ছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দঁড়িপাঁচাশি গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের দুই ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২) ১৯৯৪ সালে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যান। দুই ভাই পরিবারসহ রাজধানীর উত্তরা–১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তাঁরা উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন।
শুক্রবার সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হারেছ উদ্দিন, তাঁর ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) এবং শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তার (১৫) মারা যান। রাহাব উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিল এবং রোদেলা পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে।
শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জের দঁড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দঁড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসা–সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হচ্ছে। মসজিদের সামনে জানাজার প্রস্তুতি হিসেবে বাঁশ কেটে রাখা হয়েছে।
মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ বলেন, হারেছ উদ্দিন মসজিদ ও মাদ্রাসায় নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। এমন একজন ভালো মানুষের মৃত্যু তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না।
হারেছ উদ্দিনের দোকানে একসময় কাজ করা মনির হোসেন বলেন, হারেছ উদ্দিন দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে–মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় হারেছের স্ত্রী তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুল ইসলামের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন এবং শহীদুল নিজে দোকানে চলে যান। এ সময় বাসায় থাকা পরিবারের অন্য তিন সদস্য আগুনের ধোঁয়ায় মারা যান।
হারেছ উদ্দিনের বাড়ির সামনে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় দেখা যায়। মৃত্যুর খবরে সবাই ছুটে এসেছেন। হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনায় তিনজন মানুষ মারা গেল। সংসারে অভাবের কারণে দুই ভাতিজা খুব ছোটবেলা থেকে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা করে জীবন চালাচ্ছিল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।’
সিএ/জেএইচ


