সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ চরমভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সুজন রাজশাহী জেলা ও মহানগরের আয়োজনে বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচনী অঙ্গন ও রাজনৈতিক দলগুলোতে কালো টাকার প্রভাব এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকেও বিপুল অর্থ দিতে না পারায় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট করে।’
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে জরুরি হলো নির্বাচন কমিশনের সংস্কার। অতীতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে শাসক দলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত।’
সংবিধান প্রসঙ্গে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করতেই সংবিধান রচনা করা হয়েছিল। এর ফলেই প্রধানমন্ত্রী অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন।’ তিনি আরও বলেন, সেই ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে হতে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছেন।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করা হয়। এর ফলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’
সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারা অংশ নেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সিএ/এএ


