পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ছাত্রদল ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুই নেতাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে পৌর শহরের শরৎনগর বাজারে পাবনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের সঙ্গে নেতাকর্মীদের একটি আলোচনাসভা শেষে এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান রিপন এবং উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন। অন্যান্য আহতদের নাম জানা যায়নি। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের পুরাতন ডাকবাংলো চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপজেলা বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা আসার পর উভয়পক্ষের মধ্যে আপত্তি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, এবং সিনিয়র নেতারা সভা ছেড়ে চলে যান।
আহতরা অভিযোগ করেছেন, আলোচনাসভা শেষ হওয়ার পর ওই নেতাদের একাংশ এক থেকে দেড় শতাধিক লোক নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে। আহত ছাত্রদল নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সভায় আমরা শুধুমাত্র তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে বসে আলাপ করতে চেয়েছিলাম। সেখানে কিছু সিনিয়র নেতা উপস্থিত হয়ে আমাদের আপত্তি তুলেছিলেন, আমরা তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাই। এরপরও এক থেকে দেড় শতাধিক লোক এসে আমাদের বেধড়ক মারধর করে। আমরা সাত-আটজন আহত হয়েছি এবং এ ঘটনায় আমরা ন্যায় বিচারের দাবি করছি।’
অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব লিখন সরকার বলেন, ‘তারা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ওই সভায় সিনিয়র নেতাদের আমরা ডাকি নি। হাসান জাফির তুহিন ভাই সিনিয়র নেতাদের ডাকার পর তারা হট্টগোল সৃষ্টি করেন। পরে সভা শেষে আরেক পক্ষের সঙ্গে তাদের ঝামেলা বাধে। আমরা সেটি মেটানোর চেষ্টা করেছি। এখন তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।’
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন বলেন, ‘এটি বড় কোনো ঘটনা নয়। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে উভয়পক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করেছে।’
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এএ


