সিরাজগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ও বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পৃথক অভিযানে ঢাকা ও টাঙ্গাইল থেকে পলাতক অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন মো. সিয়াম (২১), তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের ধানবান্দি মহল্লার আব্দুস সালামের ছেলে। অপরজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর, একই মহল্লার মতি সেখের ছেলে।
এর আগে ঘটনার পরপরই পুলিশ মামলার আরও দুই কিশোর আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তারা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে তারা শিশু নিরাময় কেন্দ্রে রয়েছে।
নিহত আব্দুর রহমান রিয়াদ (১৮) সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া খানপাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি সিরাজগঞ্জ ইসলামীয়া কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে র্যাব-১২ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার উসমান গনি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর গ্রামের আলফা জোন অ্যান্ড কোম্পানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পলাতক আসামি সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ নিয়ে এ মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কলেজছাত্র রিয়াদ গত মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন বাহিরগোলা রোডে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে বসে থাকা অবস্থায় পূর্বশত্রুতার জেরে ১০-১২ জনের একটি দল তাকে বার্মিজ চায়নিজ টিপ চাকু, চায়নিজ কুড়াল, রামদা, চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সিএ/এএ


