দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর ক্রমবর্ধমান সংকট ও মূল্য অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এলপিজিকে ‘গ্রীনফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহে এলপিজি আমদানির জন্য ঋণ ও এলসি খোলার আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এটি শিল্পখাত ও গৃহস্থালিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণত শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও হ্রাস পায়, যার ফলে এলপিজির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চলতি শীত মৌসুমেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে এবং বাজারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি সংকট নিয়ে একাধিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এলপিজি আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট ও ট্যাক্স কাঠামো পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। সভায় বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আগের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছিল, আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব সময়োপযোগী। তবে প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম কতটা প্রভাবিত হবে তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
লোয়াবের সঙ্গে পরবর্তী সভায় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ একমত পোষণ করে। তবে লোয়াবের সদস্যরা আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাট আরোপের দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট স্মারক পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার সঙ্গে লোয়াব নীতিগতভাবে একমত ছিল।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশের নিচে ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করা হয়। শীতকালে বিশ্ববাজারে ও দেশে সরবরাহ কমে যাওয়ায়, পাশাপাশি পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস পায়, ফলে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে লোয়াবের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় এলপিজিকে গ্রিন ফুয়েল হিসেবে বিবেচনা করে ব্যাংক ঋণ ও এলসি খোলার আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া, এলপিজিকে সবুজ শিল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ফান্ড থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হলে খাতের বিদ্যমান সমস্যা নিরসন এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ঋণ ও এলসি সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এএ


