ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষে জেলার ৪টি আসনে মোট ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই স্বতন্ত্র। বিশেষ করে ফরিদপুর-১ আসনে ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একজন দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে দাখিল করা ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ ঘোষণাপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাসার খান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মুহাম্মদ খালেদ বিন নাছের, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ শরাফাত হোসাইন। এ আসনে মাইনরিটি জনতা পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বিএনপির বিদ্রোহীসহ মোট ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে ১ জানুয়ারি যাচাই শেষে দাখিল করা ৭ জন প্রার্থীর সবাইকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আকরাম আলী, গণ অধিকার পরিষদের ফারুক ফকির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ মো. জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জয়নুল আবেদীন বকুল মিয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. নাজমুল হাসান এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আকরামুজ্জামান।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির নায়াব ইউসুফ আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুত তাওয়াব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে এম ছরোয়ার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. রফিকুজ্জামান মিয়া এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আরিফা আক্তার বেবী। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।
ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মো. শহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সরোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইসহাক চোকদার এবং জাতীয় পার্টির রায়হান জামিল।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধনী কাগজপত্র দাখিল করার পর বিধি অনুযায়ী যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ৪৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ২৯ ডিসেম্বর দাখিল করেন ৩৮ জন। যাচাই-বাছাই শেষে শেষ পর্যন্ত ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
ফরিদপুর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহম্মেদ জানান, মোট ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৭৬টি ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯১১ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪ জন।
সিএ/এএ


