বিদেশি কূটনীতিকদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে বিএনপিই আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তার মতে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাধিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি দলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও বার্তা প্রকাশ পাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে ভবিষ্যৎ ক্ষমতার পালাবদলের।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মাসুদ কামাল বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকগুলো রাজনৈতিক দল আছে। সেই দলের মধ্যে একটি দলের সঙ্গে যে সম্পর্কটা ওনারা দেখালেন, তার মানে ওনারা কি ধরেই নিয়েছেন যে বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় আসছে? এটা যদি ধরে নেন তাহলে খুব একটা ভুল হবে বলে মনে করি না।
তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী দেশ একটি নতুন সরকার পেতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে গুমট একটা শাসন, তার অবসান ঘটবে। আমরা এমন একটা সরকার পাব, যার কাছে আমরা জবাবদিহিতার কথা বলতে পারব। যেকোনো কিছু খারাপ করলে আমরা তাকে প্রশ্ন করতে পারব। যেটা এই সরকারের কাছে পারতাম না। তাদের কোনো জবাবদিহিতা ছিল না।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা একটা হিসাব দিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যত লোকের বিচারবহির্ভূত মৃত্যু হতো অথবা হয়েছিল অথবা মবের মাধ্যমে যত লোক মারা গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক এই ২০২৫ সালে মারা গেছে— শান্তিতে নোবেল পাওয়া ড. ইউনূসের আমলে। এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য।
খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় আন্তর্জাতিক উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাসুদ কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় যারা এসেছিলেন তারা আশেপাশের সবগুলো দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের লোকজন এবং খুবই পাওয়ারফুল লোক। তারা এসেছিলেন কেন? খালেদা জিয়া তো দেশের প্রধানমন্ত্রী না এখন। ওনার দলও রাষ্ট্রক্ষমতায় নেই। ওনারা সরকারেরও অংশ নয়। তাহলে কেন এত লোক এখানে এলেন?
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ভারতের আমাদের প্রতি যে মনোভাব, যে আচরণ সে আচরণকে আমরা কখনোই ভালো বলতে পারি না। আমরা মনে করি, এক ধরনের বৈরী আচরণ তারা করছে। ঠিক সেই সময়ে জয়শঙ্কর ভারতের বিমানবাহিনীর একটা বিমান নিয়ে অল্প সময়ের জন্য হলেও এসে শোক প্রকাশ করলেন। ভারতীয় সরকারের শোক বার্তা তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দিলেন। উনি চলে যাওয়ার আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন না অথবা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করলেন না।
মাসুদ কামাল আরও বলেন, ভারত আগেও বারবার বলেছে যে, আমরা অবশ্যই একটা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাই। মানে ড. ইউনূসের সরকারকে তারা শুরু থেকেই মেনে নিতে পারছিল না। মেনে না নেওয়ার তাদের যে সিদ্ধান্তটা তারা সেখান থেকে সরেওনি। তারা বলছে আমরা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক করবো। এখন নির্বাচনের আগে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকগুলো রাজনৈতিক দল আছে। সেই দলের মধ্যে একটি দলের সঙ্গে যে সম্পর্কটা ওনারা দেখালেন তার মানে ওনারা কি ধরেই নিয়েছেন যে বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় আসছে? এটা যদি ধরে নেন তাহলে খুব একটা ভুল হবে বলে মনে করি না।
সিএ/এএ


