কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো শীতের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে কমে গেছে তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগার।
তীব্র শীতের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ, যার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
মোগলবাসা এলাকার রিকশাচালক মজিবর রহমান বলেন, সকালে রিকশা নিয়ে বের হলে যাত্রী পাওয়া যায় না। শীতের জন্য অপেক্ষা করলে দিনের অর্ধেক চলে যায়। ফলে আয় রোজগার হয় না। তাই যাত্রী না পাওয়া গেলেও শীত উপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে রিকশা নিয়ে বের হই।
এদিকে শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। হাতিয়া ভবেশের কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, টানা শীতের কারণে ধান বীজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেও কাজ হয় না।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের দাপট থাকবে। তবে এ সময় তাপমাত্রা ওঠানামা করবে।
সিএ/এএ


