ই-সিগারেট, ভেপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ কার্যকর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপানের অপরাধে জরিমানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এই সংশোধনী অধ্যাদেশের প্রস্তাব করেছিল।
পোস্টে জানানো হয়, এই আইনের মূল লক্ষ্য তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করা। এর আওতায় বিড়ি উৎপাদন–সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভেপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্যকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে এর মধ্যে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার প্রয়োজনে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এসব পণ্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।
নতুন আইনে ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সব ধরনের জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ আগের ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা গ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করা যাবে না। ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংবলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে।
নতুন অধ্যাদেশে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, পণ্য জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা জোরদার করা সম্ভব হবে।
সিএ/টিআর


