জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে যানজটে পারাপার কঠিন ছিল, সেখানে এখন অনেকটাই ফাঁকা চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কটিয়াদী-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ভেতরে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার যান চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তেলের সংকটের কারণে চালকরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘপথে যাত্রা এড়িয়ে চলছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কে দেখা যায়, সড়কে আগের মতো যানবাহনের চাপ নেই। অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহনের উপস্থিতি থাকলেও ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। মোটরসাইকেলের চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে এবং কেবল জরুরি প্রয়োজনে কিছু মোটরসাইকেল রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাইকচালক আজিজুল হক সৌরভ বলেন, কোথাও তেল পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে পাম্পে তেল এলে নিতে হয়। জরুরি প্রয়োজন না হলে এই সময় বের হতাম না।
ট্রাকচালক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘তেল পেতে খুব কষ্ট হয়। কয়েক দিন ধরে খুব সমস্যার মধ্যে ছিলাম। বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। এখন শুনছি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হচ্ছে। হয়তো আজ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।’
পথচারী আবুল বাশার বলেন, ‘কিছুদিন ধরে সড়কে গাড়ির পরিমাণ কম দেখা যাচ্ছে। এখন সহজেই চলাচল করা যাচ্ছে। আগের মতো এত গাড়ির চাপ নেই।’
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট এ তেল সংকট দ্রুত কাটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চালক ও যাত্রীরা। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় তারা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
সিএ/এএ


