ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একটি সফল ক্রু উদ্ধার অভিযান তাঁকে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই উদ্ধার অভিযান রাজনৈতিকভাবে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ শুক্রবারই শেষ হতো, তাহলে ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী দাবি করার জন্য হাতে সীমিত কিছু অর্জনই দেখাতে পারতেন। এর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার দাবি এবং সামরিক-বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। তবে পরাজয়ের হিসাব বাড়িয়ে তুলতে পারত যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়া এবং ক্রু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। বিশেষ করে নিখোঁজ ক্রুদের ইরান উদ্ধার করে ছবি প্রকাশ করলে সেটি মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ধাক্কা হতো, যা ১৯৮০ সালের জিম্মি সংকটের মতোই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে মিত্রদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ার মতো চাপের মধ্যেই ট্রাম্পকে একাধিকবার নীতি পরিবর্তন করতে হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ক্রু উদ্ধারের সফল অভিযান তাঁকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘উই গট হিম!’ বা ‘আমরা তাঁকে পেয়েছি!’। বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য তাঁকে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও ১৯৮০ সালের ‘ঈগল ক্ল’ অভিযানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ওই সময় তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি ৫৩ জনকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ব্যর্থ সেই অভিযান এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যর্থতার স্মৃতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইতিহাসের সেই ঘটনাটি স্মরণ করে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে মার্কিন দূতাবাসে ৫৩ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসে ‘ঈগল ক্ল’ অভিযান শুরু হলেও বৈরি আবহাওয়া ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অভিযান ব্যর্থ হয় এবং ফেরার পথে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে আট সেনা নিহত হন। পরে ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ক্রু উদ্ধার অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় ঘোরানোর সুযোগ। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং দুই পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ক্রু উদ্ধার অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে এবং অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ক্রু উদ্ধার অভিযান কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা-ও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
সিএ/এএ


